কালকিনিতে মাদ্রাসা ছাত্রীর ধর্ষণ মামলা ঠেকাতে ধর্ষকের মামার চাঁদাদাবীর মামলা

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়নের ক্রোকিরচর গ্রামের দরিদ্র পরিবারের ৭ম শ্রেণীর (১৩) বছরের ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় কালকিনি থানা পুলিশ ধর্ষণের চেষ্টার মামলা নথিভুক্ত করলেও ধর্ষণ মামলা নেয়নি।
এদিকে ধর্ষকের মামা মো. খলিল সরদার ধর্ষিত মেয়েটির বাবা ও দু’ভাইয়ের নামে মাদারীপুর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত মাদারীপুরে একটি খুনের চেষ্টাসহ চাঁদাদাবীর মামলা দায়ের করেছে।
এতে অসহায়-দরিদ্র পরিবারটি নিজ বাড়ী ছেড়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ধর্ষণের মামলা না হওয়ায় মাদারীপুর জেলা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দেয়ায় কালকিনি থানা পুলিশ হুমকির মুখে রেখেছে।
মামলা ও ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, মস্তফা মাওলানা মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী (১৩) গত ২৩ অক্টোবর ২০১৫ইং বাড়ী থেকে বেড়িয়ে টেইলাসে নিজের জামা-কাপর আনতে গেলে পথি মধ্যে মৃত হানিফ হাওলাদারের ছেলে জাহিদ হাওলাদার (২৭) ও মুজাহার মীরের ছেলে খলিল মীর (২৫) পথিমধ্যে অটো ভ্যান থামিয়ে জোর করে ভ্যানে উঠিয়ে ক্রোকিরচর উচ্চ বিধ্যালয়ের একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করে ফেলে যায়।
এ ব্যপারে কালকিনি থানায় ঐদিন রাতে মামলা করতে থানায় আসলে ওসি মামলা না নিয়ে মেয়েটি কাছ থেকে একটি অভিযোগ রেখে বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয়। দরিদ্র ও অসহায় পরিবারটি কোন দিন মামলা বা থানা পুলিশের বিষয়টি জানা না থাকায় মামলার ব্যপারটি কার সাথে আলোচনা করেনি। ঘটনাটা গ্রামে জানা জানি হলে গোপন সংবাদে স্থানীয় সাংবাদিকরা ২৬ অক্টোবর সরেজমিন থেকে ফিরে ওসির সাথে কথা বললে তিনি ওইদিন মামলাটা নথিভুক্ত করেন। তবে ধর্ষণের মামলা না নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার মামলা রেকর্ড করা হয়।
এ দিকে মামলার আসামী জাহিদ হাওলাদারের মামা একই গ্রামের ইব্রাহীম সরদারের ছেলে খলিল সরদার গত ২৭ অক্টোবর মাদারীপুর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত মেয়েটির বাবা মো. ছত্তার সরদার, বড় ভাই লাল মিয়া সরদার ও ছোট ভাই শুক্কুর সরদারের নামে খুনের চেষ্টা ও চাঁদাদাবীর মামলা দায়ের করেন।
ধর্ষিতার পিতা বলেন, আমার মেয়ে ধর্ষণ হওয়ার পরে স্থানীয় সালিশগণ আমাকে ২৫ হাজার টাকা দিতে চেয়েছিল আমি না নিলে থানায় মামলা হলে তারা গ্রামবাসী এক হয়ে আমাদের গ্রাম ছাড়া করেছে। বর্তমানে আমরা পালিয়ে উপজেলা সদরে আমার আত্মিয় কাছে আছি। গত বুধবার ৪ নভেম্বর কোটে গেলে আমার মুহরী বলে আপনাদের নামে কোটে একটি মামলা হয়েছে। মামলা নকল উঠাইয়া দেখি আমি ও আমার ছেলেকে আসামী করে মামলা দিয়েছে। আমার মেয়ের ইজ্জত গেলো মামলা দিয়ে গ্রাম ছাড়া হলাম এখন জেলেও যেতে হবে এদেশে কি গরিবের কোন স্থান নাই। তাহলে আমরা যাব কোথায়।

Leave a Reply