মুক্তিপণ না পেয়ে মাদারীপুরের দুই জনকে মালেশিয়ায় গলা কেটে হত্যা

Malyasia-Killing

মুক্তিপণ না পেয়ে মালেশিয়ায় দুই বাংলাদেশিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে মালয়েশিয়ার একটি পাহাড় থেকে নিহতদের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুর গ্রামের শাহজাহান খানের ছেলে বিজয় খান (২৫) ও একই উপজেলার সিডিখান গ্রামের চুন্নু খানের ছেলে রাসেল খানকে (৩০) সহজ শর্তে মালয়েশিয়া নিয়ে ৫০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

মুক্তিপণের পুরো টাকা না দেয়ায় তাদের হত্যা করে মালেশিয়ার একটি পাহাড়ে লাশ ফেলে রাখে। রাসেলের ভাই শিহাব এ ঘটনায় বরিশাল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত গৌরনদী থানা পুলিশকে মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিজয় ও রাসেলকে আটকে রেখে ইউনুস ও সাকের নামে দুই ব্যক্তি মুক্তিপণ দাবি করে ইসলামী ব্যাংক টেকনাফ শাখায় (হিসাব নং- ২১৩৩৮) জমা দিতে বলে। সে মোতাবেক নিহতের পরিবার মুক্তিপণ বাবদ ইসলামী ব্যাংক গৌরনদীর টরকী বন্দর শাখায় ৫ লক্ষ টাকা জমা দেয়া হয়। কিন্তু পুরো টাকা না দেয়ায় তাদের হত্যা করে।

এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গৌরনদী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম জানান, গত বুধবার টেকনাফ থেকে মুক্তিপণের ৫ লাখ টাকা পাঠানো একাউন্টের মালিক আনসার উল্লাহকে (২৭) গ্রেফতার করা হয়। রহস্য উদঘাটনে তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হয় বৃহস্পতিবার। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে মামলার বাদী শিহাব তাকে জানায়, মালয়েশিয়ার একটি পাহাড় থেকে তার ভাই রাসেল ও বিজয়ের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি বলেন শিহাব আরো জানায়, রাসেলের মালয়েশিয়া প্রবাসী প্রতিবেশীরা সেখানকার পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছে।  মালয়েশিয়া পুলিশ  ইউনুস ও সাকেরসহ তিন বাংলাদেশিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং মরদেহের সন্ধান দেয়। আর তাদের দেয়া তথ্যমতে অভিযান চালিয়ে গলাকাটা মরদেহ দুটি উদ্ধার করে মালয়েশিয়া পুলিশ। ইউনুস ও সাকেরসহ আটক তিনজনের বাড়ি টেকনাফ জেলায়।

নিহত বিজয়ের বাবা শাহজাহান খান জানান, ঘটনায় মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশে অটককৃতরা সবাই রোহিঙ্গা। তিনি সরকারের কাছে লাশ দ্রুত দেশে আনার দাবি জানান।

অপরদিকে, নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে শোকার্ত দুই পরিবার।

Leave a Reply