18.5 C
Mādārīpur
Sunday, November 29, 2020

রাজৈরে স্কুল ভবন ঝুঁকিপূর্ন,ক্লাস চলছে জরাজীর্ণ টিনের ঘর ও খোলা আকাশের নিচে

- Advertisement -
- Advertisement -

rajoir-pic-6-1024x614

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী ইউনিয়নের ২ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের ওয়াল ভেঙ্গে পড়ায় ভবন গুলো সরকারীভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে । নতুন কোন ভবন নির্মাণ না করার কারণে পুরানো জরাজীর্ণ টিনের ঘর , কখনও গাছতলা আবার কখনও খোলা আকাশের নীচে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে।
৭৮ নং বড়খোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদ ভীম খসে পরছে অনেক দিন ধরেই । ১২১ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে ৫ জন শিক্ষার্থী খোলা আকাশের নিচে ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছে। মেঘ হলেই এ সকল বিদ্যালয় গুলো ছুটি হয়ে যায় । ২০১৩ সালের বার্ষিক পরিক্ষার সময় ভীমের পলেস্তার খসে পড়ে দ্বিতীয় শ্রেণির একজন ছাত্রী এবং রেনুকা নামের এক সহকারী শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছিল বলে জানা যায়।
২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত শিক্ষকরা একইভাবে ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে কখনও খোলা আকাশের নিচে ,কখনও বা গাছ তলায় পাঠদানের কাজ কোনমতে চালিয়ে যাচ্ছেন। এ সকল বিদ্যালয়ের ভবন গুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় পাঠদানের বিকল্প জায়গা না থাকায় ঝড় বৃষ্টি আসলেই শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। গত ২২ এপ্রিল ১ম সাময়িক পরীক্ষা চলা কালিন সময় ঝড় বৃষ্টির ভিতরে ভিজে ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষা দিয়েছে । গত ২৩ এপ্রিল ঝড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টির কারণে পরীক্ষা দিতে পারে নাই। ঝড় বৃষ্টি সময় সকলে স্কুলের পাশে একটা কালি মন্দিরে আশ্রয় নেয় বলে জানা গেছে ।
প্রধান শিক্ষিকা বিনা মজুমদার জানান, ১৯১০ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৯৫ সালে ভবনটি পুণনির্মান করা হয় । ১৭ বছর পর ২০১৩ সালে ভবনটি ঝুকি পূর্ণ বলে পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়। তার পর থেকে আর কখনো সংস্কার না করায় বর্তমানে এই স্কুলের একতলা ভবনটির চারটি কক্ষে ভীম,ছাদ ও দেয়ালের বিভিনś স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে নতুন একটি ভবনের জন্য আবেদন করেন যা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি । ঝড় বৃষ্টি হলেই কোমল মতি ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে আমরা আতংকিত হয়ে পড়ি। কখনও খোলা আকাশের নিচে, কখনও গাছ তলায় আমাদের পাঠদান করাতে হয়। তাছাড়া বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়ের সকল খাতাপত্র ভিজে যায়। এ ছাড়াও শিশুদের ভবিষ্যৎ ক্ষয়ক্ষতির কথা চিন্তা করে এলাকার অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পায়। প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র ঝুঁকি নিয়ে আমাদের লাইব্রেরীর রুমে রাখা ছাড়া কিছু করার নাই। ২০১৩ সালে স্কুল ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষনার পর ১৯১০ সালে নির্মিত সেই জরাজীর্ণ টিনের ঘরে চার বছর যাবৎ ক্লাস করায় বৃষ্টি হলেই মিক্ষার্থীদের নিয়ে মারাত্মক সমাস্যার পরতে হয়। মেঘ বা ঝড়বৃষ্টি হলেই স্কুল ছুটি দিয়ে দিতে হয় । বিদ্যালয় ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষনার র্দীঘদিন পরেও নতুন কোন ভবন নির্মানের ব্যপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন সিদ্ধান্ত গ্রহন না করায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধো তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে ।
অবিভাবক গোপাল হালদার জানায়, আমাদের ছেলে-মেয়েরা ভয়ের মধ্যে জরাজীর্ণ ঘরে ক্লাস করে। মাঝে মাঝে বৃষ্টিতে তাদের বই-খাতা ভিজে যায়। পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্র স্বাধীন ও রুদ্র বালা জানায়, আমরা গত ২৩ এপ্রিল ঝড় বৃষ্টি কারণে পরীক্ষা দিতে পারি নাই। ঝড় বৃষ্টি হলে আমাদের কেথাও যাওয়ার জায়গা নাই । তারা আরও জানায়, আমাদের স্কুলে প্রতিদিন সকালে আসলেই দেখি ভাংঙ্গা চুরা টিনের ঘরে গরু, ছাগল ও মুরগীতে পায়খানা করে টেবিল চেয়ার নষ্ট করে ফেলেছে। সরকার যদি নতুন ভবন তৈরী করে না দেয় তবে আমাদের লেখা পড়া মারাত্মমক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ।
অপরদিকে একই ইউনিয়নের ৭৫ নং গোলাবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯৪ সালে একতলা বিশিষ্ট একটি পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয় ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ছাদের পলেস্তরা ,ভীম খশে খশে পড়ছে । ১৬২ জন ছাত্র-ছাত্রী ও ৪ জন শিক্ষক রয়েছে। গরীব ও দুঃস্থ পরিবারের ছেলে মেয়েদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলার জন্য এলাকাবাসী অক্লান্ত পরিশ্রম করে বিদ্যালয়টি গড়ে তুলেছিলেন । পরবর্তীতে বিদ্যালয়টি অনুমোদন লাভ করে ৯৮ সালে একতলা বিশিষ্ট পাকা ভবন নির্মান করা হয় । অসাধু ঠিকাদার নির্মাণ কাজ করায় কয়েক বছর না যেতে না যেতেই বিদ্যালয় ভবনের পলেস্তরা খসে পড়া শুরু করে । বিদ্যালয় ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষনার দীর্ঘদিন পরেও নতুন কোন ভবন বরাদ্দ না করায় এলাকাবাসীর সেই স্বপ্ন ভেস্তে যেতে বসেছে। বিদ্যালয় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় বর্তমানে কোনো কক্ষে ক্লাস চলে না বলে ছাত্র- ছাত্রীরা প্রচ- গরমের ভিতরে একটি টিনের ছাপড়ার নিচে ক্লাস করছে । ঝড় বৃষ্টি শুরু হলেই বই খাতা ভিজে যায় । ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ভীমের পলেস্তার ভেঙ্গে পড়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক আহত হয় বলে জানিয়েছেন ছাত্র-ছাত্রীরা। ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনের বিষয়টি প্রশাসনকে বার বার অবহিত করা হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫/০৩/১৪ ইং তারিখে বিদ্যালয় ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করে পরিত্যক্ত ভবনে ক্লাস না নেওয়ার জন্য শিক্ষকদেরকে নির্দেশ দেয় । বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মহানন্দ মন্ডল জানায়, জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষনার পরে দুর্ঘটনার ভয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয় ভবনে যেতে ভয় পাচ্ছে । এতে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতিও কম । নতুন একটা ভবন নির্মাণের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানায় ।
রাজৈর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা উত্তম কুমার সরকার জানান, আমরা ২৯ টি স্কুলের ভবনের জন্য উপরে লিখিত পাঠিয়েছি। ছবিসহ তথ্য দিয়েছি। পর্যায়ক্রমে সবগুলি স্কুলের ভবন হয়ে যাবে।

- Advertisement -

Latest news

মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি নৌপথে আট দিন পর ফেরি চলাচল শুরু

মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি নৌপথে আট দিন পর ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তিনটি ফেরি দিয়ে...
- Advertisement -

গ্রেনেড হামলায় নিহত চাঁদপট্টির লিটনের বাবা মায়ের কি অবস্থা

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় গ্রেনেড হামলায় নিহত যুবলীগ নেতা লিটনের মা-বাবা ভাল নেই। এখন কাজকর্ম করতে পারেন না লিটনের বাবা আইয়ুব...

পাইকপাড়া ও রাজেস্বরদীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ অগ্নি সংযোগ, আহত ৩৫, ভিডিও

https://www.youtube.com/embed/zP1esKklEYc দুই কিশোরের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদারীপুরের রাজৈর ও ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার দুই ইউনিয়নবাসীর মধ্যে ৫ ঘণ্টা ব্যাপী সংঘর্ষ হয়।...

মাদারীপুরের মিজানুর লেবাননের বৈরুতে বিস্ফোরণে নিহত

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত তিন বাংলাদেশির একজন মাদারীপুর জেলার কালকিনির মিজানুর রহমান খান। সন্তানের নিহতের খবর বাড়িতে পৌঁছালে শোকের মাতম...

Related news

মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি নৌপথে আট দিন পর ফেরি চলাচল শুরু

মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি নৌপথে আট দিন পর ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তিনটি ফেরি দিয়ে...

গ্রেনেড হামলায় নিহত চাঁদপট্টির লিটনের বাবা মায়ের কি অবস্থা

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় গ্রেনেড হামলায় নিহত যুবলীগ নেতা লিটনের মা-বাবা ভাল নেই। এখন কাজকর্ম করতে পারেন না লিটনের বাবা আইয়ুব...

পাইকপাড়া ও রাজেস্বরদীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ অগ্নি সংযোগ, আহত ৩৫, ভিডিও

https://www.youtube.com/embed/zP1esKklEYc দুই কিশোরের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদারীপুরের রাজৈর ও ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার দুই ইউনিয়নবাসীর মধ্যে ৫ ঘণ্টা ব্যাপী সংঘর্ষ হয়।...

মাদারীপুরের মিজানুর লেবাননের বৈরুতে বিস্ফোরণে নিহত

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত তিন বাংলাদেশির একজন মাদারীপুর জেলার কালকিনির মিজানুর রহমান খান। সন্তানের নিহতের খবর বাড়িতে পৌঁছালে শোকের মাতম...
- Advertisement -

Leave a Reply