হুন্ডি ব্যবসার অভিযোগে শিবচরে জামাই-শাশুড়িসহ সিআইডি পুলিশের হাতে ৩ জন আটক

হুন্ডি ব্যবসার অভিযোগে মাদারীপুরে শিবচরে এজাহারভুক্ত স্বামী-স্ত্রী জামাই-শাশুড়িসহ ৩ জনকে সিআইডির পুলিশের একটি টিম আটক করেছে। আটকৃতদের সিআইডির হেড অফিসে নেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসী ও শিবচর থানা সূত্রে জানান, উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের পূর্ব মির্জারচর গ্রামের লিবিয়া প্রবাসি মজিবর জমাদ্দার (৪৮) দীর্ঘদিন ধরে হুন্ডি ব্যবসা করে আসছিল। সে গত প্রায় ৫/৭ বছর আগে লিবিয়া পাড়ি জমায়। কয়েক বছর আগে সে তার ছোট ভাই দাদন জমাদ্দার ও তার ছেলে রায়হান জমাদ্দারকে লিবিয়া নিয়ে যায়। বেশকিছু দিন আগে মজিবর জমাদ্দার ও দাদন জমাদ্দার বাংলাদেশে ফিরে আসেন। কিন্তু মজিবর জমাদ্দারের ছেলে রায়হান জমাদ্দার এখনও লিবিয়ায় বাস করছেন। এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে লোক নেওয়ার নাম করে অবৈধভাবে হুন্ডি ব্যবসার মাধ্যমে অবৈধ টাকা উপার্জন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত প্রায় এক দেড় মাসে শিবচর ব্রাক ব্যাংক শাখায় মজিবর জমাদ্দার ও তার স্ত্রী নুরজাহান এবং ন্যাশনাল ব্যাংকের শিবচর শাখায় জামাতা হান্নান মিয়ার ব্যাংক হিসাব খোলা হয়। ব্যাংকে হিসাব খোলার পর থেকে মজিবর ও তার স্ত্রী নূরজাহানের এ্যাকাউন্টে প্রচুর পরিমান টাকা লেনদেন হতে থাকে। গত প্রায় ২ মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ১০/১৫টি শাখা থেকে উক্ত হিসাবে টাকা জমা হয়। এতে ব্রাক ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন পাঠালে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অল্প সময়ের ব্যবধানে আকস্মিকভাবে প্রচুর পরিমান টাকা জমা হওয়ার অনুসন্ধানে নামে। এর সূত্র ধরেই মজিবর জমাদ্দার ও তার স্ত্রী নুরজাহান বেগমকে (৩০) আসামী করে ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ৪(২) ধারা মোতাবেক সিআইডিতে একটি মামলা করা হয়। (মামলা নাম্বার-২০ তারিখ: ২০-০৪-২০১৭ইং)। ঐ মামলায় গত বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে সিআইডির একটি টিম মির্জারচর গ্রামে এসে মজিবর ও তার স্ত্রী নূরজাহানকে গ্রেফতার করে । তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক তাদের জামাতা একই পার্শ্চবর্তী উপজেলা জাজিরার নাওডোবা গ্রামের শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে হান্নানকে (৩০) সিআউডি গ্রেফতার করে। আটকৃত মজিবর জমাদ্দার শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের পূর্ব মির্জারচর গ্রামের হাবিবুর রহমান জমাদ্দারের ছেলে।

এ ব্যাপারে আটককৃত মজিবরের ছোট ভাই খোকন জমাদ্দার মুঠোফোনে জানান, আমার বড় ২ ভাই মজিবর জমাদ্দার ও দাদন জমাদ্দার ও ভাতিজা রায়হান জমাদ্দার দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়া বসবাস করছে। সম্প্রতি ২ভাই মজিবর জমাদ্দার ও দাদন জমাদ্দার দেশে ফিরে আসে কিন্তু ভাতিজা এখনও লিবিয়ায় বসবাস করছে। পরিবারের ৩জন লিবিয়ায় থাকাবস্থায় বৈধভাবে কোন টাকা পয়সা বাংলাদেশে পাঠাতে পারে নাই। প্রায় এক মাস পূর্ব ধরে লিবিয়া ও ইটালিসহ অন্যান্য দেশে গমনিচ্ছুক প্রবাসীদেরকে লিবিয়ার অর্থ দিয়ে সাহায্য করে। ঐ সকল আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে বাংলাদেশে ব্যাংক এ্যাকাউন্টে বিদেশ প্রবাসীরা টাকা জমা দেয়। এ কারণে হুন্ডি ব্যবসার অপরাধে ভাই-ভাবিসহ তার জামাতাকে বৃহস্পতিবার  সিআইডি পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে ঢাকা নিয়ে যায়।

ব্রাক ব্যাংকের শিবচর শাখা ব্যবস্থাপক মোস্তাক হোসেন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে মজিবর জমাদ্দার ও তার স্ত্রী নুরজাহান বেগমের ব্যাংক এ্যাকাউন্ট দুটির লেনদেন বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তাদের এ্যাকাউন্টে ইতপূর্বে দেশের বিভিন্ন স্থানে শাখা থেকে তাদের এ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকা জমা হয়েছে কিন্তু টাকার পরিমাণ নির্দিষ্ট করে বলতে তিনি অস্বীকার জানান।

ন্যাশনাল ব্যাংকের শিবচর শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, হান্নান মিয়ার এ্যাকাউন্টে গত প্রায় ২ মাসে স্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে। তবুও আইনগত জটিলতার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে উক্ত হিসাবটি বর্তমানে লেনদেন বন্ধ রাখা হয়েছে।

ব্রাক ব্যাংকের সিনিয়র ম্যানেজার কমিউনিকেশন আ. রহিম জানান জানান, মজিবর জমাদ্দার ও তার স্ত্রী নুরজাহান বেগমের ব্যাংক এ্যাকাউন্ট দুটিতে অল্প সময়ের মধ্যে অস্বাভাবিক লেনদেন হয়। সে কারণে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করি। বর্তমানে আইনগত জটিলতার কারণে ঐ দুটি এ্যাকাউন্টের লেনদেন বন্ধ রয়েছে।

শিবচর থানা অফিসার ইনচার্জ জাকির হোসেন মোল্লা জানান, ঢাকা থেকে আসা সিআইডির উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম স্বামী-স্ত্রী ও জামাতাসহ ৩ জনকে আটক করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের এ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকা পেয়েছে। এই টাকা হুন্ডি ব্যবসার মাধ্যমে অর্জন করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশে গমনিচ্ছুক লোকদেরকে লিবিয়ায় জিম্মি করে তাদেরকে মারধর করে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অনুমান করা হয়েছে। এ চক্রটি দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধভাবে দেশে টাকা লেনদেন করে এবং বিদেশে গমনইচ্ছুক যাত্রীদেরকে মারধর করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে।

সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মিনহাজ ইসলাম উক্ত মানি লন্ডারিং আইনে ৩জনকে আটক করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন।

Leave a Reply