প্রভাবশালীদের অত্যাচার থেকে মুক্তি চান রাজৈরের হাসিনুর বেগম

Hasinur-Begum

হাসিনুর বেগম

প্রভাবশালীদের অত্যাচার ও অব্যাহত হুমকিতে স্বামী-সন্তান নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার শংকরদী পাট্টাবুকা আদর্শ গ্রামের নুর ইসলাম মৃধার স্ত্রী হাসিনুর বেগম। তাঁর অভিযোগ, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায়ই প্রভাবশালীদের শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক ঘটনায় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে বিচার সালিস করে কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় থানায় মামলাও করেছেন তিনি। কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি। বরং তাদের অব্যাহত হুমকিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপত্তাহীন জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ অবস্থায় প্রভাবশালীদের কবল থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন হাসিনুর বেগম।

হাসিনুর বেগমের অভিযোগ

নুর ইসলাম মৃধার স্ত্রী হাসিনুর বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার কিছু প্রভাবশালী প্রায়ই আমার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করে আসছে। সর্বশেষ গত ১৬ ডিসেম্বর শংকরদী পাট্টাবুকা আদর্শ গ্রামের নিজ বাড়িতে আমার ছেলে সাইফুল মৃধার সঙ্গে এলাকার অন্য ছেলেদের খেলা নিয়ে ঝগড়া হয়। এই কারণে পরের দিন ১৭ ডিসেম্বর বিকেলে এলাকার লোকজন সালিস ডাকে। কিন্তু বিকেল হওয়ার আগেই সালিসের অপেক্ষা না করে সকাল বেলা একই এলাকার প্রভাবশালী ছোমেদ শেখের ছেলে হবি শেখ, মৃত নবু হাওলাদারের ছেলে রেজাউল হক হাওলাদার ও ফজেল হক হাওলাদার এবং মেয়ে দুলি বেগম, মৃত মোংলা খানের ছেলে বিরাজ খান ও মৃত কালা মোল্লার ছেলে আক্কাস মোল্লার নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার ঘরে ঢুকে পড়ে। তারা আমার ছেলেকে না পেয়ে আমাকে দা দিয়ে কুপিয়ে গলা, মুখ ও হাত জখম করে। এ সময় তারা ঘরে লুটপাটও করে। ঘরের দরজা-জানালা ও ঘরের চালা ভেঙে দেয়। এ ছাড়া নগদ ১১ হাজার টাকাও লুট করে নিয়ে যায়। পরে এলাকার লোকজন আমাকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাজৈর হাসপাতালে ভর্তি করে। মুখে সাতটি, গলায় পাঁচটি ও হাতে আটটি সেলাই লেগেছে আমার। ঘটনার দুই দিন পর আমার জ্ঞান ফিরে আসে। পরে আমি রাজৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করি। মামলা করার পর গ্রামের মাতুব্বর আনোয়ার কাজী, সেকেন হাওলাদার, রেজ্জেক মোল্লা এই ব্যাপারটি নিয়ে সালিস করেন। সালিসে তাঁরা আমাকে সাত হাজার টাকা দিয়ে মামলা মীমাংসার কথা বলেন। কিন্তু আমি তাতে রাজি হইনি।’
তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, ‘চিকিৎসা নেওয়ার পর রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্রে ডাক্তার দিলীপ বাবু আমাকে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট না দিয়ে উল্টো দুই হাজার টাকা দাবি করেন। এ ছাড়া থানায় মামলা করার সময়ও আমার সাত হাজার টাকা দিতে হয়। এরপরও আমি কোনো বিচার পাইনি। আসামিরা অগ্রিম জামিন নেয়। জামিনে বের হয়ে তারা আমাকে মামলা তুলে নেওয়ার কথা বলে। আমি তাতে রাজি না হওয়ায় তারা আমাকে হত্যা ও ঘরে অস্ত্র রেখে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়। এ ব্যাপারে থানায় গেলেও আমি কোনো সাহায্য পাইনি। এ ছাড়া ওই আসামিরা গ্রামের প্রভাবশালী হওয়ায় মাঝেমধ্যেই তুচ্ছ ঘটনা নিয়েই আমাদের অত্যাচার করে। তাই আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ থেকে আমি মুক্তি চাই।’

অভিযুক্তদের বক্তব্য

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মামলার প্রধান আসামি হবি শেখ বলেন, ‘আমার সঙ্গে হাসিনুর বেগমের কিছুই হয়নি। সে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। হাসিনুরের ছেলের সঙ্গে এলাকার ছেলেদের খেলা নিয়ে ঝগড়া হয়। এরই সূত্র ধরে ১৭ ডিসেম্বর মারামারি হয়েছে। আমি প্রতিবেশী হিসেবে সেই মারামারি থামানোর চেষ্টা করি। কিন্তু হাসিনুর বেগম আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে।’

থানা-পুলিশের ভাষ্য

এ ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কালাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মামলার তদন্ত কাজ চলছে, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Leave a Reply