নির্যাতনের বিচার ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা দাবি রাজৈরের ছবুরন বিবির

ডাকাতি ও নির্যাতনের শিকার হয়েও পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ আড়াইপাড়া গ্রামের মৃত নেছার উদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী ছবুরন নেছা বিবি। সঠিক বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো লাভ হচ্ছে না। এ ব্যাপারে রাজৈর থানায় মামলা ও সম্প্রতি মাদারীপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন ছবুরন বিবি। প্রায় এক মাস আগে ডাকাতির সময় ছেলের বউ গণধর্ষণের শিকার হলে রাজৈর থানায় মামলা না নেওয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেন তিনি। পরে মাদারীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে মামলা করায় আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে ওই পরিবারটিকে। ফলে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের কাছে সাহায্য চেয়েছেন ছবুরন নেছা বিবি।

ছবুরন নেছা বিবির অভিযোগ

উপজেলার দক্ষিণ আড়াইপাড়া গ্রামের ছবুরন বিবি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একই গ্রামের রফিক চৌধুরীর সঙ্গে আমার ছেলে হাবিব চৌধুরীর বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গত ১২ মার্চ শনিবার দিবাগত রাতে রফিক চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল চিহ্নিত ডাকাত ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে নগদ টাকাসহ এক লাখ ৬০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতি শেষে আমার বড় ছেলের বউকে নির্যাতন ও ধর্ষণ করে। পরের দিন সকালে নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূকে প্রথমে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেঙ্ েভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তিনি বেশ কয়েক দিন চিকিৎসা নেন। তাৎক্ষণিক এ ঘটনা রাজৈর থানায় মৌখিকভাবে জানানো হলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি আমলে না নিয়ে চেপে যেতে বলেন। পরে আমি বাদী হয়ে গত ১৫ মার্চ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে একটি মামলা করি। মামলায় দক্ষিণ আড়াইপাড়া গ্রামের মৃত সলেমান চৌধুরীর দুই ছেলে রফিক চৌধুরী ও লুৎফর চৌধুরী, সাতবাড়িয়ার মৃত নূরু হাওলাদারের ছেলে সাজা হাওলাদার, বনগ্রামের মৃত রশিদ হাওলাদারের ছেলে আনোয়ার হাওলাদার, রাজন্দী দারাদিয়া গ্রামের বজলু মাতুব্বর, দারাদিয়া গ্রামের মৃত কামু খানের ছেলে সোহরাব খানসহ সাত-আটজনকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে চরমপন্থী দলের আঞ্চলিক নেতা হিসেবে পরিচিত ডাকাতি ও হত্যা মামলায় ২০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি সোহরাব খানও রয়েছে। ঘটনার দিনসহ বিভিন্ন সময় সোহরাব খান বেপরোয়াভাবে আমাকেসহ আমার পরিবারকে নানা ধরনের নির্যাতন করছে। এ ব্যাপারে রাজৈর থানাকে বারবার অবহিত করলেও থানা-পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে না।’

এলাকাবাসী ও পরিবারের
সদস্যদের বক্তব্য

একই গ্রামের নূর হোসেন খান ও ছবুরন নেছা বিবির মেয়ে-জামাই জাহিদুর রহমান মিন্টু বলেন, ‘আমরা এই অসহায় পরিবারটিকে সহযোগিতা করায় রফিক চৌধুরী, সোহরাব খান ও লুৎফর চৌধুরীর গ্রুপ যেকোনো সময় মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করতে পারে। এরই মধ্যে মোবাইল ফোনে বারবার প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমরা এই সন্ত্রাসী বাহিনীর সঠিক বিচার চাই।’ এ ছাড়া আসামিরা ধর্ষিতার প্রাথমিক চিকিৎসক আড়াইপাড়া বাজারের ডা. গোলাম মওলাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় তিনিও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

অভিযুক্তের বক্তব্য

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত রফিক চৌধুরী বলেন, ‘ডাকাতি, ধর্ষণ_সবই ওদের সাজানো নাটক। আমাকে ফাঁসানোর জন্য মিথ্যা মামলা দিয়েছে।’

থানা-পুলিশের ভাষ্য

যোগাযোগ করা হলে রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ দিন থেকে রফিক চৌধুরী ও হাবিব চৌধুরীর মধ্যে জমিজমা এবং একটি রাইস মিল নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। ফলে তাদের সঙ্গে এ নিয়ে প্রায়ই বিরোধ হয়। দুজনই একে অপরের আত্মীয় হওয়ায় বিষয়টি আরো জটিল আকার ধারণ করেছে। তা ছাড়া আমি কোনো পক্ষপাতিত্ব করিনি। সঠিকভাবে তদন্ত করে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Leave a Reply