প্রধানমন্ত্রীকে ফেসবুকে হুমকি: বুয়েট শিক্ষক রানার ৭ বছর কারাদণ্ড

buet-teacher-jail

রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেসবুকে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের প্রভাষক হাফিজুর রহমান রানাকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. জহুরুল হক আজ বৃহস্পতিবার এই রায় দেন। তবে বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী শাহ আলম তালুকদার ও তাপস কুমার পাল।

২০১২ সালের এপ্রিল মাসে হাফিজুর রহমান ফেসবুকে তার ব্যক্তিগত ওয়ালে একটি বার্তা (স্ট্যাটাস) লেখেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক হাফিজুর রহমান রানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসে লেখেন,

‘হায়েনা, ওই হায়েনা তুই দেশকে খেয়েছিস, এখন বুয়েটকে খাবি… পারবি না। আমরা বুয়েটের শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা হলাম শিকারি। প্রথমে তোর মাথায় গুলি করবো, পরে পেটে। তারপর মাথা কেটে বুয়েটের সামনে টানিয়ে রাখবো। যাতে আর কোনও হায়েনার আক্রমণে বুয়েট আক্রান্ত না হয়।’

ওই বার্তার একটি স্থানে তিনি ‘হায়েনা’ শব্দটি উল্লেখ করেন।

২০১২ সালের ১৯ এপ্রিল ‘দৈনিক ভোরের কাগজ’-এ এই সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এ ঘটনার পর ফেসবুকে শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির অভিযোগে গত বছরের ২৩ এপ্রিল জননেত্রী পরিষদের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এ বি সিদ্দিক প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা চেয়ে শাহবাগ থানায় একটি জিডি করেন।

ওই জিডির বিষয়ে ইন্সপেক্টর বিপ্লব কিশোর শীল তদন্তের অনুমতি চেয়ে ২৪ এপ্রিল আদালতে আবেদন করেন।

সিএমএম আদালত বিষয়টি স্পর্শকাতর ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আদালতে এ ব্যাপারে তদন্ত করে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে শাহবাগ থানা থেকে অভিযোগটি তদন্তের জন্য গত বছরের ২৫ এপ্রিল ঢাকা মহানগর গেয়েন্দার অপরাধ বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনারের কাছে (সাইবার) তদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

তাদের তদন্তের পর ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় গত ১৭ জুন শাহবাগ থানার ইন্সপেক্টর বিপ্লব কিশোর শীল একটি নন-এফআইআর মামলা দায়ের করেন।

গত বছরের ১৮ জুন তথ্য প্রযুক্তি আইন ২০০৬ এর ৫৭ (১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায় হাফিজুর রহমান রানার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। এর মধ্যে তথ্য প্রযুক্তি আইন এর ৫৭ (১) ধারা অনুসারে ৫ বছর এবং দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায় ২ বছর কারাদণ্ড হয় হাফিজুর রহমান রানার।

এ সময় ৫ জনকে সাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

সে সময় এ বি সিদ্দিকী বলেছিলেন, “ওই লেখা পড়ে আমার মনে হয়েছে তা প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করেই লেখা হয়েছে।”

জবাবে নিজস্ব ফেসবুক ওয়ালে বুয়েট শিক্ষক হাফিজুর রহমান বলেছিলেন, “ওই বক্তব্য কোনো ব্যক্তিকে উদ্দেশ করে লেখা হয়নি। হায়েনা বলতে অনিয়ম আর দুর্নীতিকে বোঝানো হয়েছে।”

১৯ জুন এই মামলায় হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন সিএমএম আদালত। এ মামলায় বুয়েটের ওই প্রভাষক হাইকোর্ট থেকে গত বছরের ১৪ আগস্ট জামিন পান। পরবর্তীতে নিম্ন আদালত থেকেও ১৮ সেপ্টেম্বর জামিন পান তিনি। জামিন লাভের পর এ বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি পলাতক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেসবুকে হত্যার হুমকি দানের অভিযোগে প্রভাষক হাফিজুর রহমান রানার বিরুদ্ধে গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠন করেন আদালত। ১৪ অক্টোবর থেকে এ মামলার সাক্ষগ্রহণ শুরু হয়।

এদিকে প্রভাষক হাফিজুর রহমান রানার ফেসবুক টাইমলাইনে গিয়ে দেখা গেছে সর্বশেষ গত ৫ এপ্রিলের পরে কোন স্ট্যাটাস পোস্ট করেননি।

রায়ে বলা হয়, “আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণে সক্ষম হওয়ায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে আসামিকে এ সাজা দেওয়া হয়।

আসামি হাফিজুর রহমান জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছেন। তিনি যে দিন গ্রেপ্তার হবেন বা আত্মসমর্পণ করবেন, সেদিন থেকে এ রায় কার্যকর হবে।”

প্রসঙ্গত, বুয়েটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এখনও হাফিজুর রহমানের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া আছে

Leave a Reply